যে বুলেট ছুটে গেল আজ, তাকে কবিতায় আজ রাতে ফিরিয়ে আনতে হবে-সাম্প্রতিক কতটা চিরকালীন হল তার গুরুভার মাথায় না নিয়ে, গত ৩৫ বছর সব সমালোচনা সরিয়ে, সব ভ্রুকুটি ও ভান উপেক্ষা করে সুবোধ সরকার লিখেছেন ৩১টা কাব্যগ্রন্থ। ‘বৈশাখী ও বব ডিলান’ এমনই এক চর্যাপদ যেখানে অতীত মুখ দেখছে উত্তর-আধুনিক জলে, যেখানে করিমগঞ্জ ও কালিফোর্নিয়া মিশে যায়, যেখানে লেখকের রক্ত নিয়ে চলেছে মথুরা এক্সপ্রেস। সুবোধ বলেছিলেন, ‘আজকের কথা আমি আজকেই লিখব।’ সে কাজ করে গেছেন বলে নতুন প্রজন্ম তাঁর দরজা কাঁধে করে নিয়ে চলেছেন নতুন বাড়িতে লাগাবেন বলে। বৈশাখী ও বব ডিলানের মাঝখানে, লোকাল ও গ্লোবালের মাঝখানে, গোরু ও গোরখপুরের মাঝখানে হরিণাভি নামে একটা ভূখণ্ড আছে, সেটাই কি সুবোধ সরকারের নতুন কবিতা?
সুবোধ সরকারসুবোধ সরকার-এর জন্ম ২৮ অক্টোবর, ১৯৫৮, কৃষ্ণনগরে। শরণার্থী পরিবারের ছেলে। বাবা মারা যান যখন ক্লাস এইটের ছাত্র। ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক, পড়ান সিটি কলেজে। কবিতা পড়তে গিয়েছেন আমেরিকা, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, রাশিয়া, তাইওয়ান, ইস্তানবুল। স্ত্রী প্রয়াত কবি মল্লিকা সেনগুপ্তের সঙ্গে সম্পাদনা করেছেন ‘ভাষানগর’ পত্রিকা। সম্পাদনা: দিল্লির সাহিত্য অকাদেমির ইংরেজি জার্নাল ‘ইন্ডিয়ান লিটরেচার।’ পেয়েছেন সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার (২০১৩), বিনোদনশক্তি চট্টোপাধ্যায় পুরস্কার এবং বাংলা আকাদেমির পুরস্কার। এছাড়াও কবিতার জন্য পেয়েছেন সম্বলপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গঙ্গাধর মেহের জাতীয় পুরস্কার এবং গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ও বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাম্মানিক ডি লিট। ২০১৬তে ফুল ব্রাইট ফেলোশিপ নিয়ে আমেরিকার আইওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়েছেন এবং ৩৩টি দেশের কবি লেখকদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক লেখক শিবিরে অংশ নিয়েছেন। পুত্র রোরোকে নিয়ে কলকাতার সিরিটিতে থাকেন। পশ্চিমবঙ্গ কবিতা আকাদেমির তিনি প্রথম সভাপতি।
No reviews yet. Be the first to review this product.